ইরান ইস্যুতে ডলারের ধাক্কা, শক্তিশালী হচ্ছে ইউয়ান

বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর এবার বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে মার্কিন ডলার। চলতি সপ্তাহে ডলারের মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। অন্যদিকে শক্তিশালী হয়ে উঠছে চীনের ইউয়ানসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মুদ্রা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার আশায় ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন তারা।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর রয়েছে ইসলামাবাদের আসন্ন আলোচনার দিকে, যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠক বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকেছিলেন, ফলে এর মান দ্রুত বেড়ে যায়। তবে যুদ্ধবিরতির আভাস মিলতেই সেই প্রবণতা বদলে গেছে এবং ডলার সূচকে নিম্নমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে চীনের ইউয়ান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়ে সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে অন্যতম উচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও মুদ্রাটির এই উত্থান বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান সতর্ক করে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সহজ হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কমে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে পড়ছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Source: বাংলাদেশ প্রতিদিন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন