সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার গভীর রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার সকালে, যখন মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা জোরপূর্বক ভেতরে ঢুকে কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেয় এবং নিয়ম ভেঙে অপারেশন থিয়েটার এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় ওটি ইনচার্জকে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনাও ঘটে, যা চিকিৎসা পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলার পরপরই র্যাব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অভিযান শুরু করে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত ব্যক্তি চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জোরপূর্বক মেডিকেল সরঞ্জাম ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহে বাধ্য করার চেষ্টা করেন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। এসব কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ভুক্তভোগী চিকিৎসকের দাবি, একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতাল বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, হুমকি বা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এই ঘটনার পর চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
