দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দাবি করেছেন, দেশের বহুল আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপকে চারটি ব্যাংক ফেরত দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া চলছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। সেখানে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে প্রশ্ন তোলেন, “ব্যাংক ডাকাত এস আলমকে সরকারের ৩৫ হাজার কোটি টাকাসহ চারটি ব্যাংক ফেরত দেওয়া হচ্ছে। কে দিচ্ছে আমি জানি না, আপনারা জানেন?”—এই মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
তবে এই দাবির বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক ও জনমত পর্যায়ের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের নাম প্রায়ই উঠে আসে শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায়। সম্প্রতি সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা গেছে, দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠান এই গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বড় ঋণখেলাপিদের বিষয়ে স্পষ্ট নীতি ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় এই ধরনের অভিযোগ বা দাবি জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে।
এস আলম গ্রুপের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম এই শিল্পগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন। সময়ের সঙ্গে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তবে এর সঙ্গে জড়িত আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের নানা বিতর্কও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে উত্থাপিত এই দাবির সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অবস্থান জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি, এবং এ খাত নিয়ে যেকোনো অনিশ্চয়তা সরাসরি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনা এখন বড় পরিসরে পৌঁছেছে। বিষয়টি কতটা বাস্তবসম্মত এবং এর পেছনে কী ধরনের নীতি বা সিদ্ধান্ত কাজ করছে—তা স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক মহল।
সূত্র: ঢাকা টাইমস
Tags
জাতীয়
