সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি হৃদয়বিদারক ছবি সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, ধুসর চাদরে মোড়ানো এক শিশুকে কোলে নিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছেন এক যুবক। অনেকেই ছবিটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে সেটিকে ‘বাবার কোলে সন্তানের নিথর দেহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। ছবিতে যাকে শিশুটির বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছিল, তিনি প্রকৃতপক্ষে শিশুটির বাবা নন; বরং একজন আত্মীয়, যিনি হাসপাতাল থেকে মরদেহটি নিয়ে যাচ্ছিলেন।
জানা গেছে, রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অবস্থিত একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে হাম (Measles) রোগে আক্রান্ত হয়ে তিন বছর বয়সী মো. সাদমান মারা যায়। মৃত্যুর পর তার মরদেহ যখন হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, ঠিক সেই সময় ছবিটি তোলা হয়।
ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই আবেগঘন ক্যাপশন দিয়ে তা শেয়ার করতে থাকেন। কিন্তু যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের তথ্য প্রচারের ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্যখাতের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হাম রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর অবস্থায় শিশুদের ভর্তি করতে হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
সরকারি উদ্যোগে ইতোমধ্যে কিছু হাসপাতালে বিশেষ ইউনিট চালু করা হয়েছে, যাতে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। তবুও রোগটির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে মৃত্যুর দিনই রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরদিন তার বাবা-মা সন্তানের কবর জিয়ারত করতে গেলে বিষয়টি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি বা তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় ভুল তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং বাস্তব ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করতে পারে।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের করুণ ঘটনা কমানো সম্ভব হয়।
Source: BBC Bangla
Tags
জাতীয়
