রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ছাত্রশিবিরের কথিত ‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে। এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল বুধবার (২২ এপ্রিল) দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করেছে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার–সংলগ্ন প্রাচীর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা লাল ও কালো রঙে দেয়ালে বিভিন্ন স্লোগান লিখেন। এর মধ্যে ‘গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই’—এমন বার্তাই ছিল প্রধান।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী) অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার বিরোধী শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সংগঠন বর্তমানে নিজেদের পরিচয় আড়াল করে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এ ধরনের গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো সংগঠন যদি গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তা সংগঠনগত ও আইনি উপায়ে প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে স্বচ্ছ রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশে কোনো ধরনের গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে সব মতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা উচিত। তবে একই ব্যক্তি একাধিক রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় থাকা নৈতিকতার পরিপন্থী এবং তা ক্যাম্পাসে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
ছাত্রদল জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যায়ক্রমে এই দেয়াললিখন কর্মসূচি চালানো হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগের দিন চট্টগ্রামের একটি সরকারি কলেজে গ্রাফিতি নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে, যেখানে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও সহনশীলতা বজায় রাখা না গেলে ভবিষ্যতে আরও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
Tags
রাজনীতি
