জামায়াত-এনসিপি জোটের সংরক্ষিত নারী আসনে চূড়ান্ত তালিকা, কারা হচ্ছেন এমপি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন তালিকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনে যারা সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে মনোনীত হতে যাচ্ছেন, তাদের নাম ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।  


জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।  

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ১১ দলীয় এই জোট মোট ৭৭টি আসন লাভ করেছে। এর অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসনে জোটটির প্রাপ্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১২টি আসন পাওয়ার কথা থাকলেও জোটগত সমন্বয়ের অংশ হিসেবে তারা তিনটি আসন শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে জামায়াত নিজে নিচ্ছে ৯টি আসন এবং বাকি তিনটি ভাগ পাচ্ছে এনসিপি, জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।  

জামায়াতের চূড়ান্ত তালিকায় যেসব নারীর নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, মারজিয়া বেগম, অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন্নাহার নিলু এবং প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। এছাড়া আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বগুড়া অঞ্চল থেকেও প্রার্থী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই তালিকায় জুলাই আন্দোলনের এক শহীদের মাকেও মনোনয়নের আওতায় আনা হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  

অন্যদিকে, জোটের শরিক দলগুলোর জন্য বরাদ্দ তিনটি আসনের মধ্যে এনসিপি থেকে ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপা থেকে তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা করিম মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানা গেছে।  

এনসিপি তাদের প্রাপ্ত সাধারণ আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত নারী কোটায় একটি আসন পাচ্ছে। দলটির ভেতরের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই আসনের জন্য মনিরা শারমিনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।  

জামায়াতের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এই তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা করা হয়েছে। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রভাব নয়, বরং যোগ্যতা ও রাজনৈতিক অবদানের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।  

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়ন শুধু সংসদের প্রতিনিধিত্বই নয়, বরং জোট রাজনীতির ভেতরের ভারসাম্য ও কৌশলগত অবস্থানকেও প্রতিফলিত করে। আগামী দিনে এই মনোনীতরা সংসদে কী ধরনের ভূমিকা রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।  

Source: বাংলা ট্রিবিউন  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন