দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আন্দোলনের নতুন বার্তা দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং তা সফল না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দল রাজপথেই থাকবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। “গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ” শীর্ষক এ আয়োজন করে ১১-দলীয় জোট।
শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে ইতোমধ্যে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এটি আর শুরুর পর্যায়ে নেই, বরং ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে। তার ভাষায়, এই আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সফলতার দিকে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জন করেই বিরোধী দল ঘরে ফিরবে।
তিনি সরকার ও বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কোথায়, তা জনগণ বুঝতে পারছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে যে আচরণ দেখা যাচ্ছে, তা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, সংসদে থাকা বা না থাকার বিষয়টি সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের অংশ। প্রয়োজন হলে বিরোধী দল সংসদে থাকবে, আবার প্রয়োজনে সেখান থেকে বেরিয়েও আসবে। তবে তার আগে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যেখানে ভিন্নমতকে দমন করা হচ্ছে এবং সংসদেও বিরোধীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিকে তিনি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্যাংকিং খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হলে তা জাতীয় অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সেমিনারে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকার করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করা হচ্ছে এবং পূর্বের অঙ্গীকার রক্ষা করা হয়নি। তার মতে, এই পরিস্থিতির কারণে আবারও আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশ্লেষকরা। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
পুরো আয়োজনজুড়ে সরকারবিরোধী বক্তব্যই বেশি প্রাধান্য পায় এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার আভাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলের এই অবস্থান সামনে রাজপথে নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দেশের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
Tags
জাতীয়
