ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম—ঝাউগড়া। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও তেমন নেই। তবুও এই ছোট্ট গ্রাম আজ এক বিশেষ পরিচয়ে পরিচিত—এখানে গড়ে উঠেছে ৭৬ জন কুরআনের হাফেজ।
কংশ নদীর দুই তীর জুড়ে বিস্তৃত এই গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত ছিল। পাকা রাস্তা, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা কিংবা নগর সুবিধা—সবকিছুই এখানে সীমিত। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা কখনোই থামাতে পারেনি ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আন্তরিকতা।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামের কয়েকটি মাদ্রাসা এই অর্জনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ডুবারপাড় ও বনপাড়া মাদ্রাসায় ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীরা কুরআন শিক্ষায় মনোযোগী হয়ে ওঠে। ধারাবাহিক অধ্যবসায় ও তত্ত্বাবধানে তারা একসময় হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করছে।
অভিভাবকদের ভাষায়, অর্থনৈতিক কষ্ট থাকলেও সন্তানদের নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষার জন্য তারা কুরআন শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেন। তাদের বিশ্বাস, ধর্মীয় শিক্ষাই সন্তানদের সৎ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
স্থানীয় আলেম ও সচেতন মহল মনে করছেন, ঝাউগড়ার এই সাফল্য শুধু একটি গ্রামের অর্জন নয়—এটি পুরো দেশের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। তাদের মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও বড় কিছু সম্ভব।
এলাকাবাসী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ভবিষ্যতে এই গ্রাম থেকে আরও বেশি হাফেজ, আলেম ও শিক্ষিত নাগরিক গড়ে উঠবে।
সব সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে ঝাউগড়া গ্রামের এই অর্জন যেন এক বার্তাই দেয়—দৃঢ় ইচ্ছা, অধ্যবসায় এবং বিশ্বাস থাকলে ছোট্ট একটি গ্রামও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ সম্ভাবনার কেন্দ্র।
Source: দৈনিক ইনকিলাব
Tags
জাতীয়
