সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুনভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের কিছু বক্তব্য। জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে যে, বাহ্যিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথ বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউজ তা স্পষ্টভাবে ভিত্তিহীন দাবি বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সরে একটি মন্তব্য, যেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক সমালোচকদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সোমবার হাঙ্গেরিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আড্ডায় ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের বাহিনীর হাতে এমন প্রযুক্তি আছে যা এখনও ব্যবহৃত হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে, যদি ইরান তাদের আচরণ পরিবর্তন না করে, তাহলে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট নিতে পারেন।” তাঁর এই মন্তব্যেই দ্রুত গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
এ ঘটনার পরই ট্রাম্প সমর্থকদের অন্যতম একটি প্ল্যাটফর্মে ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আগ্রাসী ভাষার অনুরণন পাওয়া যায়; যেখানে বলা হয়েছিল, “এ রাতটি এমন হতে পারে যেখানে সভ্যতার কিছু অংশ বিনষ্ট হবে।” এর পরেই অনলাইন চর্চায় প্রশ্ন ওঠে, এমন ধরণের বক্তব্য কি পারমাণবিক ব্যবহারের একটি ইঙ্গিত বহন করে?
যদিও বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে, তবুও হোয়াইট হাউজের তরফ থেকে এ সম্পর্কে নির্দ্বিধায় পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেওয়া একটি টুইট বার্তায় হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে “কোনও অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত নেই।” তারা রীতিমতো বলেছে এই রকম বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোন যোগ নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজটি প্রকাশ করার সময় হোয়াইট হাউজের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আরও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় রাজনৈতিক ভূমিকম্প এবং কয়ে‑কয়ে উচ্চাঙ্গুলি কিংবা হুমকিস্বরূপ বক্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনীতির পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে। যদিও অনেকেই এখনো পর্যবেক্ষণ করছেন যে, রাজনৈতিক উচ্চারণ এবং বাস্তব কর্মের মধ্যে পার্থক্য ঠিক কতটা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
Source: CNN, White House Statements
Tags
আন্তর্জাতিক
