‘বিশ্বের সেরা ও সবচেয়ে মধুর’ তেল দাবি ট্রাম্পের, দামের ওঠানামায় নতুন বার্তা

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিয়ে জোরালো দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল ‘বিশ্বের সেরা এবং সবচেয়ে মধুর’, যা কিনতে ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেলবাহী জাহাজ দেশটির দিকে ধাবিত হচ্ছে।  


শনিবার (১১ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের শীর্ষ তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর চেয়েও বেশি পরিমাণে তেল মজুত রয়েছে এবং এর মানও তুলনামূলকভাবে উন্নত। সম্ভাব্য ক্রেতাদের উদ্দেশে তিনি বার্তা দেন, “আমরা আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছি, দ্রুত চলে আসুন।”  

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য কেবল আত্মপ্রচারণামূলক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।  

বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেলের দামের ওঠানামাও এই বার্তাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।  

তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে তেলের বাজারে—দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের নিচে নেমে আসে। যদিও এটি এখনো সংঘাত শুরুর আগের সময়ের তুলনায় বেশি, যখন দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলারের কাছাকাছি।  

বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতার অন্যতম বড় কারণ হরমুজ প্রণালি। ইরানের প্রভাবাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এই পথ আবার খুলে দেওয়ার বিষয়টি বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের বাজার শুধুমাত্র সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করছে না, বরং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় উৎপাদনকারী দেশগুলো এই সুযোগে নিজেদের বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।  

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি কৌশলের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যায় এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয় কিনা—তার ওপরই নির্ভর করবে তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে, নাকি আরও নতুন অস্থিরতার মুখে পড়বে।  

সূত্র: বিবিসি বাংলা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন