টাইমের ২০২৬ সালের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান, বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বীকৃতি প্রদানকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের “টাইম ১০০” তালিকায় স্থান পেয়েছেন তিনি। বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এই তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান রাজনৈতিক নেতা, নীতিনির্ধারক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  


টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত তালিকায় ‘লিডারস’ বা নেতৃত্ব ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তারেক রহমান। একই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ভ্যাটিকানের ধর্মীয় নেতা পোপ লিও চতুর্দশ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা স্থান পেয়েছেন।  

ম্যাগাজিনটির প্রকাশিত প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়, কয়েক মাস আগেও দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসনের কারণে বিদেশে অবস্থান করছিলেন তারেক রহমান। তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি দ্রুত জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিরোধী আন্দোলনের নেতা থেকে জাতীয় নেতৃত্বে তার উত্থান আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।  

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর নির্বাচনের মাধ্যমে তার ক্ষমতায় আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এতে তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যেরও উল্লেখ করা হয়, যেখানে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে।  

টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তরুণদের বেকারত্ব সমস্যা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক—এসব বিষয় দ্রুত সমাধানের দাবি রাখে। একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগ তার রাজনৈতিক যাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিনি দেশের ঐক্য ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান। তার ভাষায়, দেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।  

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক এমন স্বীকৃতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিসরে দেশের অবস্থান ও নেতৃত্বের বিষয়েও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

Source: বাসস  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন