সিলেটে মন্ত্রীর সামনে চেয়ার নিয়ে সংঘর্ষ, ক্ষোভে অনুষ্ঠান ত্যাগ; উদ্বোধন পণ্ড

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে ঘিরে হঠাৎ করেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পাশের একটি আসনে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যা পরবর্তীতে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন মন্ত্রী।  


ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল উচ্চবিদ্যালয়ে। নতুন ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল শুরু থেকেই সরগরম ছিল।  

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রী অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর তাঁর পাশের একটি আসন দখলকে কেন্দ্র করে যুবদল সংশ্লিষ্ট দুই নেতার মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা তীব্র আকার ধারণ করে এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরে তাদের সমর্থকেরাও সংঘর্ষে যুক্ত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।  

মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় তিনি স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে অনুষ্ঠান শেষ না করেই তিনি মঞ্চ ত্যাগ করেন। এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে মাইকে অনুরোধ জানানো হলেও তিনি আর অবস্থান করেননি। নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশি পাহারায় দ্রুত তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।  

এই ঘটনার ফলে বিদ্যালয়ের বহুল প্রত্যাশিত নতুন ভবনের উদ্বোধনী কার্যক্রম পণ্ড হয়ে যায়। উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। অনেকে এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক।  

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মনির জানান, অনুষ্ঠানে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। মন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত তাকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।  

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে এড়াতে আরও কঠোর নজরদারি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন