মূল্যবৃদ্ধির পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়াল বিপিসি, ফিলিং স্টেশনে স্বস্তির আশা

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পর বাজারে সরবরাহ সংকট ও দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখন থেকে বাড়তি পরিমাণে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।  


রোববার (২০ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিপিসির অধীন তিনটি কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ ১০ শতাংশ করে বাড়ানোর জন্য। এ বিষয়ে রোববার রাতেই আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।  

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলো বাড়তি বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাবে বলে জানানো হয়েছে। এতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা ও সরবরাহ সংকট কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

এর আগে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবকে কারণ দেখিয়ে সরকার হঠাৎ করেই ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয় এবং অনেক স্থানে জ্বালানি নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।  

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত মোটামুটি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। তাই সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।  

এদিকে বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সংস্থাটি আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  

ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দীর্ঘ লাইনের চাপ কিছুটা কমবে, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে সময় লাগতে পারে।  

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে সমন্বয় করতে না পারলে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও পরিবহন খাতে পড়তে পারে। তাই বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।  

সব মিলিয়ে দাম বৃদ্ধির পর সরবরাহ বাড়ানোর এই উদ্যোগকে স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল নীতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন